জাতীয়

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১
PostImage

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানিয়েছেন।


বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইড ইভেন্ট ছিল। সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে।


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলে জানান মাহদী আমিন।


জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।


স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগ এবং এর ৮০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। পাশাপাশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।


রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। মাহদী আমিন জানান, সংকটটির মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী, তরুণ, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’—রিকভার, রিস্টোর ও রিকনস্ট্রাক্ট নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড ও ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনাও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।