জাতীয়

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করলেই যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৯
PostImage

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না


বিয়ের শর্ত বা বিবেচনার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে কেবল ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় এক ব্যক্তির দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। মো. রাসেল উদ্দিন নামের ওই আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।


রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়।


অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাসেল উদ্দিন তাঁর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি।


আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।

আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এ মামলায় বাদীসহ সাক্ষীরা তাঁদের জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, অর্থ দাবি করা হয়েছিল আসামির ব্যবসার প্রয়োজনে। ফলে এ দাবিকে যৌতুকের সংজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ নেই। যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণেও প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে।


এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে অসংগতি খুঁজে পান আদালত। বাদী তাঁর জবানবন্দিতে লাঠির আঘাতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত পাওয়ার কথা বললেও চিকিৎসকের বক্তব্য ও হাসপাতালের মেডিকেল সনদে আঘাতের স্থান হিসেবে বাম কাঁধের উল্লেখ ছিল। আঘাতের স্থান নিয়ে এই বৈপরীত্য নির্যাতনের অভিযোগকে সন্দেহের মুখে ফেলে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।


এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও দণ্ডাদেশ বাতিল করেন এবং মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।