বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত জুন মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের উপকূল থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। একটি নৌকায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে ২৬০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন।
যাত্রা শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর, গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাওয়াদি উপকূলে পৌঁছানোর আগেই দুটি নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে একটি এবং কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় নৌকাটিও বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। নৌকাগুলো ঠিক কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশেই যাত্রা করেছিল সেগুলো।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া দুটি নৌকা থেকে কোনো যাত্রী জীবিত উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে নৌযান চলাচলের অনুকূল সময়। বছরের বাকি সময় সমুদ্র উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই যাত্রা করায় এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।