ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এতে ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদিনে অন্তত চার দফা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিকে উপেক্ষা করে টানা সাত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালানোর জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
কুয়েত এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ ফ্লাইটের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে।
যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সময়সূচির যেকোনো পরিবর্তন বুকিংয়ের সময় নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তা ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
আল জাজিরার এক সংবাদদাতা জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চলাকালে চতুর্থবারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেনাবাহিনী বলেছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার সময়ই এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান কেবল পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।