আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা হুথিদের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২০ জুলাই ২০২৬, ১৮:০১
PostImage

হুথিদের দাবি, গত সপ্তাহে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী।


ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার (২০ জুলাই) এই ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। খবর আল জাজিরার।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চলমান অবরোধ আর মেনে নেওয়া হবে না। সারি বলেন, অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়েই দেওয়া হবে এবং প্রতিটি উত্তেজনার জবাব আরও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

হুথিদের দাবি, গত সপ্তাহে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

তিনি ইয়েমেনের জনগণের প্রতি সাধারণ সমাবেশ ও অস্ত্রধারণের আহ্বান জানিয়ে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি যুদ্ধরত যোদ্ধাদের সহায়তা করারও আহ্বান জানান। এর আগে রয়টার্স জানায়, ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের প্রস্তুতি নিতে হুথিদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। বিষয়টি ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুথিদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও একটি আঞ্চলিক সূত্র।

হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, সংগঠনটি ইতোমধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূল এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও সংকট সৃষ্টি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ একযোগে কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।