ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান যুব আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ‘ত্রুটিহীন’ সরকারি পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদীয়বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশের পর এই প্রথম বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে আয়োজনের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়েই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর জেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সংঘর্ষে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, আহতদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
মোদি বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এমন একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে বলেন, পুলিশের হামলায় আরও শিক্ষার্থী আহত হোক, তা তারা চান না। তিনি নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার অভিযোগও তুলেছেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ আন্দোলন ইতোমধ্যে লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে। চাকরির সংকট এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তরুণদের হতাশা এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক ও ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২৮ জুন শুরু হওয়া অনশনের পর পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্ক এখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।