আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভ থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশকে আটক করল পুলিশ

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২১ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৬
PostImage

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পুলিশি বাধায় সরিয়ে দেওয়া হলো রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে


ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’সহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানী নয়াদিল্লিতে দলটির শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যান। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের আরও কয়েকজন নেতা বিক্ষোভে যোগ দেন।


সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাস্তার ওপর বসে পড়েন এবং সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং বাসে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না।”


কংগ্রেসের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। দলটির অভিযোগ, সরকার দাবি পূরণে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেনি। বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, রাহুল প্রথমে শুধু সংসদে আলোচনা চাইলেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও যুক্ত করেন। যদিও কংগ্রেস এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে।


এদিকে বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেসের কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে কংগ্রেস দাবি করেছে, তাদের বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। এর আগে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সিজেপির অভিযোগ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে বহু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায় এবং সংঘর্ষে পুলিশের ১১৮ সদস্য আহত হন।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সংসদেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দুই দিনই নির্ধারিত সময়ের আগেই মুলতবি হয়ে যায়। কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা জাতীয় দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের আন্দোলন ও সরকারের অবস্থানকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।