ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।মঙ্গলবার জন্তর মন্তরের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আটক হওয়ার পর বুধবার মুক্তি পান রাহুল গান্ধী। মুক্তির পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। রাহুল বলেন, “শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে এই মুহূর্তে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে চালানোর জন্য একজন অক্ষম ব্যক্তি।”
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট)সহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবিও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক যুগে ভারতে ১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। অথচ এসব ঘটনায় কাউকে কার্যকরভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। তিনি বলেন, “গত এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি মাসেই একটি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবার, যারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এসব পরীক্ষার পেছনে ব্যয় করেছে।”
রাহুল আরও বলেন, “সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, গত ১০ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে কাউকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়নি।” ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা বলেন, “তরুণ শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রাখে। অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, অসংখ্য মানুষ চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে তাদের জানানো হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। এটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গভীর সংকট। সবার কাছে পরিষ্কার, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন একটি পাতানো ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, অথচ একসময় এটি বিশ্বের সেরাগুলোর একটি ছিল।”
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।