আন্তর্জাতিক

মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সিজেপি আন্দোলন

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮
PostImage

প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে বেকারত্বের ক্ষোভ, মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সিজেপি আন্দোলন


ভারতের অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের পাশাপাশি বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ কমে যাওয়ার ক্ষোভও এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। সিএনবিসি-র এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি এখন একটি শক্তিশালী গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


গত ৬ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত মে মাসে একাধিক সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য শিক্ষামন্ত্রী দায়ী। তবে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে গত সোমবার, যখন পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।


এ বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। সিজেপির জন্ম হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এক শুনানিতে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া কিছু মানুষকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে কিছু বেকার তরুণও যুক্ত হয়েছে। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


এরপর গত ১৬ মে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে এবং এর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিরোধী দলগুলোও মাঠে নেমেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। গত মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীকে আটক করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত মে মাসে পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যাতে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধানে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সরকারের এই আশ্বাসেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। সিজেপির দাবি, তাদের আন্দোলন ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।


এদিকে রাজনৈতিক ঝুঁকি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট তাদের সর্বশেষ সিভিল আনরেস্ট ইনডেক্সে ভারতকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া গবেষণা বিভাগের প্রধান রিমা ভট্টাচার্য বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর দুর্বল কর্মসংস্থানের দায় আর অতীতের সরকারের ওপর চাপানো কঠিন। ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে এই ইস্যুই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনঅসন্তোষের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও কৃষক সংগঠনও। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরেশিয়া গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া প্রধান প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রায় সব গোষ্ঠীই এখন এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ফলে আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হলেও একই সঙ্গে এটি আরও অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বাড়ছে।