আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
৩০ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৯
PostImage

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার।


বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার। বুধবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।


আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার জনগণ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি না থাকায় বিষয়টি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে পারস্পরিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এ ধরনের বিষয়ে সতর্ক কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা হামলা ঘটায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।


সেনা সদস্যদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে টিকতে না পেরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কক্সবাজারের টেকনাফ জেলার কুতুপালংয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চলে আসছে। বর্তমানে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।


মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার। গতকাল চেন্নাহ’র জনসভায় মালয়েশিয়ার শরণার্থীদের দেশের আইন মেনে চলার নির্দেশ দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। অন্যথা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এর আগেও সতর্ক করেছি এবং আবারও করছি। গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি যে শরণার্থী শিবির এবং অনুমোদিত এলাকাগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও যেন তাদের উপস্থিতি চোখে না পড়ে।”


“এটা মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না। যদি করে, পুলিশ সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে।”

সূত্র : দ্য স্টার