আন্তর্জাতিক

নেপালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: নিহত ৩, চার জেলায় কারফিউ জারি

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮
PostImage

প্রশাসন জানিয়েছে, সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া পারসা জেলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ঘিরে শুরু হওয়া সহিংসতা একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।


প্রশাসন জানিয়েছে, সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া পারসা জেলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও নেপাল সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই গত রোববার (২৬ জুলাই) সহিংসতার সূত্রপাত।


নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি অবি নারায়ণ কাফলে জানান, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। পরে কারফিউ চলাকালীন বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুনসারি জেলার ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতা, বিরাটনগরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতা এবং সিরাহা জেলার ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণেশ যাদবের ঘাড়ে গুলি লেগেছিল।


এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে নিহত ও আহতরা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নাকি অন্য কোনো পক্ষের গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল সকালে মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে সহিংসতা মারাত্মক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বাজার বন্ধ করে পুলিশ ও প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।


ধনুষা জেলা প্রশাসন কারফিউ চলাকালীন আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের জন্য সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে। সিরাহা জেলার গোলবাজারে বিক্ষোভকারীরা কারফিউ উপেক্ষা করে পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এর আগেই বিক্ষোভকারীরা একাধিক দোকান ও শপিং মলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।


সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সহিংসতা থামাতে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য সব ধরনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছে।


নেপাল পুলিশের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অবি নারায়ণ কাফলে জানান, নিরাপত্তাকর্মীদের আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রক্তপাত এড়াতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, বেশ কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চললেও নিরাপত্তা বাহিনী সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি এই সহিংসতার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও কাঠমান্ডু পোস্ট