বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক জামানত বা ভিসা বন্ড ব্যবস্থা স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নীতিমালার আওতায় আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টার–এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন তালিকায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকা মহাদেশের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বি-১ ও বি-২ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। নতুন নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
এর আগে ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প’ পর্যালোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এবং অর্থ দপ্তর সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে) কমাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর।
আগের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের সর্বনিম্ন বিকল্পটি বাদ দিয়ে বন্ডের সর্বনিম্ন স্তর ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বা ‘ওভারস্টে’ ঠেকানোই এই কঠোর নীতির মূল লক্ষ্য। বন্ডের অর্থ গ্যারান্টি হিসেবে জমা থাকবে ও ভ্রমণকারী সঠিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে আসলে জমা রাখা অর্থ পুরো ফেরত দেওয়া হবে।
তবে মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই অস্বাভাবিক আর্থিক শর্তের ফলে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের সাধারণ এবং বৈধ ভ্রমণকারীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। এতে করে দেশটিতে বৈধ পর্যটকরা ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।