নেত্রকোণায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি, আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিপন মিয়াকে নেত্রকোণা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় অভিযুক্ত রিপন জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ও মা দুজনেই ঘরের বাইরে কাজে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মেয়েটির আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রিপন সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এদিকে এই ঘটনার বিচার চেয়ে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বৈঠক বসে। সেই সালিস বৈঠকে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার নামে এই সালিসের বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের গণমাধ্যমকে জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেছিল। র্যাবের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।