সারাদেশ

৮ বছর পরও অনিশ্চয়তায় রূপগঞ্জ সদর ইউপি নির্বাচন

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০২
PostImage

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সীমানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি মৌজা যুক্ত হওয়ার


দীর্ঘ আট বছর পর নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সীমানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি মৌজা যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে আবারও নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের কেউ কেউ।


তবে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্বাচল বা সীমানা জটিলতার কারণে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আটকে যাওয়ার কোনো দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত বা আবেদন তাদের কাছে নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সদর ও দাউদপুর ইউনিয়ন এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের কয়েকটি মৌজা নিয়ে বিস্তৃত। অতীতে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে মামলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রায় আট বছর বিনা ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


সম্প্রতি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৬ জুলাই বিএনপি নেতা মো. নূরনবী ভূঁইয়াকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, তারা ১২০ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।


প্রশাসক নিয়োগের পর সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে নির্বাচন আবারও বিলম্বিত হতে পারে। সম্ভাব্য মহিলা ইউপি সদস্য প্রার্থী জাহানারা বেগম বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাসী। কোনো অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করা হলে স্থানীয় মানুষ তা মেনে নেবে না।’


এদিকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিবাদও দেখা গেছে। এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করে। সীমানা জটিলতার অজুহাতে কেউ নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া উচিত।’


সম্ভাব্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোতে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি মাঠে থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নির্বাচন হলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।


স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন। এবার তারা আর নির্বাচন বিলম্বিত করতে চান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।


এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বাচল বা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানা জটিলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বন্ধ হওয়ার কোনো দাপ্তরিক বা বাস্তব আশঙ্কা নেই। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা আবেদনও আসেনি। নির্বাচন ছাড়া প্রশাসক দীর্ঘ সময় থাকার কোনো কারণ নেই। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।’


এর আগে গোলাকান্দাইলে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে যথাসময়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দেন। এদিকে ওই আশ্বাসের পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদেরও প্রত্যাশা, কোনো ধরনের সীমানা বা প্রশাসনিক জটিলতায় নির্বাচন আর আটকে থাকবে না। ১২০ দিনের প্রশাসক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।