নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে ফেলা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল গোলচত্বর এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চুসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটির সময়ে অসাধু ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহাসড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত দুই দিন ধরে বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে মহাসড়ক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মীর শাহে আলম আরও বলেন, শিল্প-কারখানা ও পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার পৃথক ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে শিল্প ও পৌর এলাকার বর্জ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার এবং গ্যাস উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এসব প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানান।