আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গাজায় স্পেনের ফুটবল টিমের পক্ষে উচ্ছ্বাস

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮
PostImage

ফিলিস্তিনে স্পেন, ইসরাইলে আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপ ফাইনালে ভিন্ন সমর্থনের চিত্র


বিশ্বফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে আজ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ফিলিস্তিন ও ইসরাইলেও দেখা গেছে ভিন্নধর্মী সমর্থনের চিত্র।

গাজার অনেক ফুটবলপ্রেমী স্পেনকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেন সরকারের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানই এই সমর্থনের প্রধান কারণ। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয় দেশটি।

স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল এবং কোচ পেপ গার্দিওলা। এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল গাজা আল ইরাদা-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, “পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান। যুদ্ধের কারণে গাজায় স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপ উপভোগ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে অনেকেই ম্যাচ দেখতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্পেন ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের মধ্যে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়। প্রতীকী ভিএআর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের আবহ অনুভব করতে পারেন।

অন্যদিকে, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।”

এভাবে বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।