রাজনীতি

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৮
PostImage

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি


পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।


মামলার অন্য আসামিরা হলেন নুরুজ্জামান কাফির বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি এক্সকাভেটর (ভেকু), ভ্যান ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং-১২-এর ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলায় আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার মাটি কেটে নিয়ে যান এবং খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাদী আব্দুর রহিম বলেন, রজপাড়া মৌজার একাধিক বিএস দাগে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানার জমি ভোগদখল করে আসছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় থানার পরামর্শে আদালতে মামলা করা হয়েছে।


তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে তিনি বায়নামূলে জমি কিনেছেন এবং জমির মালিকরাই তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।” কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত কলাপাড়া থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।