রাজনীতি

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

detaillogo
সিনিয়র রিপোর্টার
২১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৮
PostImage

রাসূল (সা.)-এর আদর্শই কেবল একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র উপহার দিতে পারে : মাওলানা আবদুল জব্বার


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শই কেবল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র উপহার দিতে পারে। রাসূল (সা.)-এর দেখানো আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর প্রিন্সিপাল মাসুদুর রহমান গিয়াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।


সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবু বকর এবং মাওলানা ওমর ফারুক মুজাহিদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, জাহেলি যুগে সমাজে চরম বৈষম্য, অবিচার, শোষণ ও নিপীড়ন বিদ্যমান ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের মধ্যে সাম্য, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন। মদিনা সনদের মাধ্যমে তিনি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছিল।



তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্য নানা রূপে বিদ্যমান। এসব সমস্যা থেকে মানবতাকে মুক্ত করতে হলে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও রাসূল (সা.)-এর ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে।


সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে ১৬টি পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধে ইতিহাসের সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর নানা সংকটের বিষয়ও তুলে ধরা হয়।


এ সময় প্রবন্ধে কমিউনিজম ও সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতা, পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার শোষণমূলক নীতি এবং মানবাধিকারের নামে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার নানা সংকট ও ব্যর্থতার আলোকে মানবতার জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামের আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) শুধু একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন সফল সমাজসংস্কারক, রাষ্ট্রনায়ক ও মানবতার পথপ্রদর্শক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।