আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া, আগামী সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১০ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২.৭৮ ডলারে। এছাড়া আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই ওং রয়টার্সকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে তার মতে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা থাকায় স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় এই পতন দেখা গেছে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর ওপর চাপ তৈরি হয়।
অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৫৮.১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮৭.১৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৯.২০ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।