আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানিয়েছে দলটি। বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনির উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইসির পক্ষ থেকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ অংশ নেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গত ৩০ জুন দেওয়া সাত দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি এবার আরও দুটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তার নিয়োগ বাতিল করা উচিত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশন জানিয়েছে তারা সামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আগে জানত না। তবে তিনি দাবি করেন, কমিশনের বক্তব্যে তাদের অসহায়ত্ব ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। জাতীয় নির্বাচনে তাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। কমিশন বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালনে আরও দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে—এমন প্রত্যাশার কথাই কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যপদের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।