জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি দেশের সব জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি এবং দলটির জবাবদিহিতারও অভাব রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের পর যে রাজনৈতিক বিভাজন বা সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। ক্ষমতায় আসার পরই তারা এই বিভাজনের সূচনা করেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের সব সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু সমতলের আন্দোলন ছিল না, এটি পাহাড়ের মানুষেরও আন্দোলন। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বাঙালিসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ সমানভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ, হোক সে বাঙালি কিংবা চাকমা-মারমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সবাই গণতন্ত্র ও জুলাই সনদের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেবে। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে তাদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করে তোলা, যাতে তারা বুঝতে পারে যে, জুলাই সনদটি আসলে সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং এর মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে যদি সুশাসন ও গণতন্ত্র থাকে, তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমানভাবে বণ্টিত হবে। অতীতে একটি সরকার দুই-তৃতীয়াংশ পেয়ে জিতে এসেছিল, কিন্তু তাদের জবাবদিহিতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষ তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই কোনো প্রকৃত প্রতিনিধি নেই। জবাবদিহিতার আওতায় না থাকায় এই সরকারের মধ্যেও এখন নানা ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড় থেকে সমতল, এনসিপি সবার দল। সব জায়গায় এনসিপি ছাত্র শক্তি, যুবশক্তি, নারী শক্তি ও শ্রমশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। আগামীতে, প্রতিটি উপজেলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে।