জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং বিভিন্ন অপরাধের বিচারসহ ১১ দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
লংমার্চের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের দাবি আদায়ের এ কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হলে তা দ্বিগুণ শক্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাবে।” তিনি আরও জানান, ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রেলযাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ানো হলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম গ্যাস সংকট তৈরি করে সরকার দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং জনগণের সঙ্গে করা একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা হুঁশিয়ারি দিতে এসেছি। গ্যাসের দাম যদি এক টাকাও বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে এই সরকার চালাতে পারবেন না। আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না, কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়িয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ছে। এসব পাঁয়তারা চলবে না, বাংলাদেশে মুনাফাবাজি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি। গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি।