রাজনীতি

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন রিজভী?

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫
PostImage

দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দলের বিভিন্ন সংকটে সামনে থেকে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে।


বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন মাধ্যমে তার নাম সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?


দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দলের বিভিন্ন সংকটে সামনে থেকে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে।


বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাকে দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে রিজভী আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে বলেও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।


তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। মির্জা ফখরুল নিজেও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে। তাকে রাষ্ট্রপতি করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে ফখরুল নিজে কিছু জানেন না এবং দল থেকেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রদলের রাজনীতির উত্তাল ও সংকটময় সময়ে যেসব নাম রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রিজভী আহমেদ।


২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১৮ এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী সময়ে নানা সংকট মোকাবিলা করলেও রিজভী আহমেদ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বেগম খালেদা জিয়া তাকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন।


এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দুঃসময় থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে রিজভী আহমেদ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে বিএনপিতে আলোচনা আছে। এছাড়া বেশ কয়েকবার গ্রেফতার, পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করলেও তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ৯ বার কারাবরণ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আড়াইশর অধিক মামলা হয়েছিল।


তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের দুঃসময়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কার্যত নিজের কর্মস্থল ও আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছিলেন রিজভী। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন তিনি দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান করেন। শীর্ষ নেতারা ওই সময় কারাগারে থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে রিজভী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। 


২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেয় পুলিশ। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি রিজভীর নেতৃত্বেই তালা ভেঙে প্রবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে দলের অনেক সিনিয়র নেতা যখন আত্মগোপনে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রিজভী ঝটিকা মিছিল করে আলোচিত হন।


বিএনপির একজন যুগ্মমহাসচিব যুগান্তরকে বলেন, রিজভী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ফুলটাইম কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। দলের সাংগঠনিক বাস্তবতাও তিনি ভালো বোঝেন।


দলটির তৃণমূলের কয়েকজন নেতা জানান, রিজভীর প্রতি তাদের বড় আস্থার জায়গা হলো তার সাংগঠনিক যোগাযোগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করলেও তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

ঢাকা দুই মহানগর বিএনপির সিনিয়র ২ জন নেতা বলেন, দুঃসময়ে রুহুল কবির রিজভীর কোনো বিকল্প হয় না। দলের যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে তিনি আমাদের অভিভাবক হিসাবে কাজ করেছেন। তাই মহাসচিব হিসাবে তাকেই আমরা সবচেয়ে যোগ্য মনে করি।