শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালুর বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষকদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পে স্কেল আলাদা হওয়া উচিত। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে এটা করা উচিত নয়। কম হোক, বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে কারও তুলনা চলে না।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের শুধু বেতন-ভাতা নয়, তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তাই অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা না করে তাঁদের স্বতন্ত্র মর্যাদার জায়গা থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রস্তাব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। দেশে শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষক নিয়োগ কত দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’
এ ছাড়া দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।