জাতীয়

শুধু ডিজেলেই প্রতিদিন ১০৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১
PostImage

সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।


বর্তমানে শুধু ডিজেল বিক্রি করেই প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।


ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, প্রতিদিন শুধু ডিজেল খাতেই সরকার প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। সে হিসাবে বছরে শুধু ডিজেল বিক্রিতেই সরকারের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান মেনে দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তবে ধারাবাহিক লোকসান কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করতে হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, ভারতের কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা ২২ পয়সা এবং পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি লিটারে ২০ টাকা দাম সমন্বয় করায় বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে।


তিনি আরও জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীন এলাকাগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।