কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী, যারা আগুন লাগাচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই সজাগ থাকবেন, সবাই প্রস্তুত থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘এই যে পরিকল্পিত ঘটনা, আজকে পত্রিকায় এসেছে বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসছে। টেলিফোন নম্বরটি কার? কে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে? ফোন নম্বরটি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের। তাহলে বুঝুন ষড়যন্ত্রের গভীরতা কত দূরে।’
রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি গ্যাস অ্যাভেইলেবল হয়, যদি জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো আসা শুরু করে, তাহলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে।’ রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণকে কখনো কষ্ট দিতে চায় না। ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অনেক আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা থাকলেও তা ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বিএনপিকে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের পক্ষের সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘আমরা জাতীয় স্বার্থের সরকার, জনগণের পক্ষের সরকার, দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার, তারেক রহমানের সরকার।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য দেখেছি, আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট ভূমিকা দেখেছি। আজকে এই সংগঠন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তাদের দুর্নীতি-দুঃশাসন আমরা দেখেছি।’
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের জন্য কাজ করছে এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাজপথের কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
এ্যানি আরও বলেন, ‘কিছুদিন যাবত ওই নিষিদ্ধ সংগঠন আরেকটা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্নভাবে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কায়েম করতে চায়। তারা পালিয়েছে পাঁচ আগস্ট। দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের ভেতরে থেকেও অনেকেই আরেকটা অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুইটা অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলছে।’ বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যখন বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করে নতুন বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন, তখন সরকারকে বিপদে ফেলতে একটি মহল ও দেশের ভেতরে থাকা একটি চক্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় বাসে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভয়ভীতি তৈরি করে উন্নয়ন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। বকুল বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন দীর্ঘ ১৭ বছরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। এ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন ও গুম হয়েছেন। দেশের স্বার্থে তারা কখনো পিছু হটেননি।
তিনি আরও বলেন, দুঃসময় ও সংকটের সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণ সুযোগ পেয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশ গঠন ও রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যেভাবে ফ্যাসিস্টদের কোনো আস্তানা রাখতে দেব না, ঠিক একইভাবে আমরা আজকের থেকে প্রতিজ্ঞা করছি যারা কালচারাল ফ্যাসিস্ট, যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদেরকে বাংলাদেশে পুনর্বাসন করতে চায়, আমরা তাদেরকে সরাসরি প্রতিহত করব। কোনো কালচারের ফ্যাসিস্টকে এই বাংলাদেশে আস্তানা করতে দেব না। এটি আজকের দিনের প্রতি আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে রাকিব বলেন, ‘সেই সঙ্গে বিরোধী দলকে শুধু বলতে চাই- ১৯৯৬ সালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। আমরা ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করছি আপনাদের ভূমিকা নিয়ে। সে ধরনের আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনারা ১৯৯৬ এবং ১৯৮৬ সালের ভূমিকা পালন করছেন। সংশোধন হবেন। তা না হলে ছাত্র-জনতা প্রতিহত করবে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।