জাপান-বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক মামলা তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী ও রাশিয়ার নাগরিক আনা প্রধান। তিনি এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু বিচার ও মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে কারাগারে আটকে রেখেছিল। অথচ ৫ আগস্টের পর উল্টো আমার স্বামীকে আওয়ামী লীগ দলটির অর্থদাতা আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানো হলো। ফলে আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে তা একেবারে স্পষ্ট।
সম্প্রতি আক্ষেপ করে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তার স্বামীর ন্যায় বিচার ও মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সেলিম প্রধানের স্ত্রী আনা প্রধান ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, একজন অসহায় মানুষ হিসেবে আপনাদের কাছে এই আবেদন জানাচ্ছি। ২০১৯ সালে আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে রানওয়ে প্লেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বৈআইনীভাবে তাকে গ্রেফতার করে “ক্যাসিনোর গডফাদার” হিসেবে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেসময় রিমান্ডে রেখে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অথচ আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমার স্বামী কখনোই ক্যাসিনো কর্মকান্ডে জড়িত ছিলো না- তাকে অন্যায় ভাবে ফাসাঁনো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তিনি চার বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যে মানুষটি নিজেই আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায়ের ভুক্তভোগী ছিলেন, তাকেই এখন ‘আওয়ামী লীগ” তকমা দিয়ে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে। এমনকি একটি মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া এগোলে অন্য মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, যেসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেসব মামলার কোনো এজাহারেই তার নাম নেই।
তিনি আরও বলেন, একজন স্ত্রী হিসেবে আমার প্রশ্ন-কেন বারবার একই মানুষকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? আমার স্বামী জাপানে বড় হয়েছেন। বিদেশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের সুযোগ তার ছিল। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন এই দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে। তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন সংকটে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন। অথচ তার প্রতি আজ কেন অবিচার হচ্ছে। তার ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি এবং মুক্তির দাবি করছি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্লেস থেকে সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলায় তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর মাদকের মামলায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (বৈষম্য বিরোধী) অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। সেই মামলায় তাকে আওয়ামী লীগের অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জেলে রয়েছেন।