সারাদেশ

৮ অক্টোবর থেকে রাজবাড়ীতে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান, দুশ্চিন্তায় জেলেরা

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪
PostImage

রাজবাড়ীতে ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান।


রাজবাড়ীতে ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। এ সময় পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তবে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও থেমে থাকবে না জেলেদের সংসারের খরচ। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কীভাবে পরিবার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পদ্মাপাড়ের অনেক জেলে।


জেলেদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও তাদের অনেকেরই সরকারি জেলে কার্ড নেই। আবার মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত না থেকেও কেউ কেউ জেলে কার্ড পেয়েছেন। ফলে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত কার্ডধারী জেলে রয়েছেন ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ভিজিএফের চাল বরাদ্দ এসেছে ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী ইলিশ জেলে চাল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।


সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট, মিজানপুর ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার পদ্মাপাড়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ জাল ঠিক করছেন, আবার কেউ নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছেন।

বরাটের জেলে জমির হালদার বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও এখনো তার জেলে কার্ড হয়নি। তার পরিবারে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে লুকিয়ে নদীতে নামতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।


মিজানপুরের জেলে ইয়াকুব আলীর জেলে কার্ড রয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নামবেন না। তবে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে বড় পরিবার চালানো কঠিন। দৌলতদিয়ার জেলে শুকচান হালদার প্রায় আট বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও তার জেলে কার্ড হয়নি। তিনি বলেন, ‘চালও পাই না, কোনো সহযোগিতাও পাই না। কী করব, পেট তো আছে।’


ধাওয়াপাড়ার জেলে ইদ্রিস ব্যাপারীও দীর্ঘদিন নদীতে মাছ ধরলেও জেলে কার্ড না পাওয়ার কথা জানান। আর প্রায় তিন যুগ ধরে মাছ ধরা সোহেল হালদার বলেন, পর্যাপ্ত সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা নদীতে নামবেন না।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।


জেলেদের কার্ড না পাওয়া এবং অমৎস্যজীবীদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জেলে কার্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন জেলেদেরও যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জেলে হিসেবে প্রমাণিত হলে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের নদীতে নামার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।