জাতীয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই বিধান গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব বিএনপির

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৪
PostImage

ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে


তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মতবিনিময় সভায় সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে সাংবাদিকরা মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বারবার কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা যখনই যোগ দেবে, তাদের স্বাগত জানানো হবে। বিভিন্ন দলের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে সই করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।’


জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করবো।’


গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যেহেতু ঐকমত্য হয়েছে, সেটি সংবিধানে রাখা হবে। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাইলে যেন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নিতে হয়, সে জন্য বিদ্যমান চারটি বিধানের সঙ্গে আরও দুটি বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে কমিটি। এটি বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব বলে জানান তিনি।


সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেসব বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। আগামী বছরের প্রথম অধিবেশন, অর্থাৎ জানুয়ারি সেশনে বিলটি সংসদে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।