সারাদেশ

গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চারটি ‘মদের গুদাম’ সিলগালা

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১
PostImage

গুলশানে কূটনীতিকদের মদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান, সফটওয়্যার জালিয়াতির তথ্য শনাক্ত


রাজধানীর গুলশানে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত মদ ও বিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ অভিযান চালিয়ে সফটওয়্যার জালিয়াতি ও পণ্য মজুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) উপস্থিতিতে ওয়্যারহাউজটি সিলগালা করে।


বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির নেতৃত্বে কাস্টমস ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইআইডি) ও এসআরবি (সাবেক র‍্যাব) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

ডিএনসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির গুদামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদিত সফটওয়্যারে খালাস দেখানো কিছু মদ মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত ৩ সেপ্টেম্বরের কাগজপত্রে ২ হাজার ২৫০ কার্টন হাইনেকেন বিয়ার আমদানির তথ্য থাকলেও সরেজমিনে গুদামে ওই পণ্য পাওয়া যায়নি।


অভিযানে আরও দেখা যায়, চারতলা ভবনের দুটি ফ্লোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছিল।


অভিযান চলাকালে যৌথ দলের কর্মকর্তারা টস বন্ডের রেজিস্টার খাতা, এনবিআর অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যার এবং ওয়্যারহাউজে থাকা মদের বর্তমান স্টক সরেজমিনে মিলিয়ে দেখেন। কর্মকর্তারা জানান, সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ‘এক্সবন্ড’ বা ছাড়পত্র পেয়েছে বলে তথ্য সংরক্ষিত ছিল। তবে গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি এবং ৬ বোতল নেমিরফ মদ পাওয়া যায়।


সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে হাইনেকেন বিয়ারের একটি চালানে। প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল তথ্যে দেখা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৫০ কার্টন বিয়ার ওয়্যারহাউজে প্রবেশ বা ‘ইনবাউন্ড’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পুরো ওয়্যারহাউজে তল্লাশি চালিয়েও ওই চালানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।


অভিযানসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সফটওয়্যারে আমদানি দেখানো হলেও বাস্তবে ওই পণ্যগুলো আগেই চোরাই পথে বা খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হবে।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়্যারহাউজটির মালিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলাম। অননুমোদিত দুটি গুদামে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে শেখ নূর ইসলামের দুটি বৈধ গুদামসহ মোট চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।


এ ছাড়া ওয়্যারহাউজটির চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ব্যবহারের বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।


গুলশানের টস বন্ড একটি ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় অ্যালকোহল ও মদ সরবরাহ করাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যক্রম।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কানাডা থেকে পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে টস বন্ডের পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও কন্যা তাসনিম ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।


এর আগে শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন তেজগাঁও লিংক রোডের ‘কয়লা রেস্টুরেন্ট’ ও ‘ফুওয়াং ক্লাবেও’ বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে।


নিউ গিনি প্রকল্পে হামলার ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেখ নূর ইসলাম সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর।


ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির হামলার জন্য বিএনপির চাঁদাবাজিকে দায়ী করলেও পরে তিনি সেই অভিযোগ থেকে সরে আসেন।

পরে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া করা মামলায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।


পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় এখন পর্যন্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।