নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যপুস্তক ছাপায় গুণগত মানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি কিংবা ছাপাখানা—কোনো ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক। এ কারণে এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আজকের পত্রিকা। প্রতিবেদনে আগামী বছরের বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে দরপত্রের শর্তের চেয়ে কম জিএসএমের কাগজ ও নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি কোথাও কোথাও বাঁধাইয়ে ত্রুটির কথাও বলা হয়।
মিড ডে মিল কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত হবে
ভবিষ্যতে মিড ডে মিল কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
মানসম্মত খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে মিড ডে মিল কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কুপন দিয়ে ক্যানটিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে। খাদ্যতালিকায় আরও নতুন খাবার যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহের প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের চিন্তা রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি জেলায় এ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে পরে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রত্যেক উপজেলায় হবে টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ
প্রত্যেক উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে।
ভবিষ্যতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুই সেট করে দুই জায়গা থেকে প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হবে।
পরীক্ষা গ্রহণের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্ষাকালীন দুর্যোগও এড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করা হবে। যেসব বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরিতে আইন সংশোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।