সারাদেশ

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়ল ৩৫ টাকার কোরাল মাছ

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৫
PostImage

এক জালেই ধরা পড়ে এক হাজারের বেশি মাছ, যার মোট ওজন প্রায় ৬ হাজার কেজি। স্থানীয় বাজারে এসব মাছ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।


কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলা-র সেন্টমার্টিন দ্বীপ-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর-এ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক ‘লাল কোরাল’ মাছ। এক জালেই ধরা পড়ে এক হাজারের বেশি মাছ, যার মোট ওজন প্রায় ৬ হাজার কেজি। স্থানীয় বাজারে এসব মাছ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে মাছবোঝাই ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেন। এতে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করলেও এক জালে এত লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া সত্যিই বিরল ঘটনা। মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার ও আব্দুল্লাহপুরের কাঁচা মাছের আড়তে পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, টেকনাফ সদরের কেরনতলী এলাকার মিজানের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ও একটি নৌকা ২১ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যায়। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্বে সাগরে জেলেরা বড় একটি মাছের ঝাঁক দেখতে পান। চারদিক থেকে জাল ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।

জেলেদের তথ্যমতে, ধরা পড়া মাছের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। প্রতিটি মাছের ওজন আনুমানিক ৫ থেকে ৭ কেজি। সব মিলিয়ে মোট ওজন প্রায় দেড়শ মণ, অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কেজি।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, বড় আকারের লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য ইতিবাচক দিক এবং এটি সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে সামুদ্রিক সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

তিনি জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল পরিহার, ছোট আকারের মাছ না ধরা এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্ভব হবে।


লাল কোরাল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Lutjanus argentimaculatus। এটি বাংলাদেশের উপকূল ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বিচরণকারী জনপ্রিয় সামুদ্রিক প্রজাতিগুলোর একটি। স্থানীয়ভাবে এটি ‘লাল কোরাল’ নামেই বেশি পরিচিত।

এমআর/