সারাদেশ

পূর্বাচল নতুন শহর যুক্ত হবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫
PostImage

রাজধানীর নিকটবর্তী বৃহৎ পরিকল্পিত নগর প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর-কে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।


রাজধানীর নিকটবর্তী বৃহৎ পরিকল্পিত নগর প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহর-কে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিগগিরই এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর অধীনে আনা হবে। পাশাপাশি পুরো প্রকল্প এলাকা ঢাকা জেলা-র অন্তর্ভুক্ত এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তা অনুমোদন পেয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল প্রকল্পকে একটি একীভূত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারপ্রধানের আগ্রহ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগ

বর্তমানে প্রকল্পটি তিন জেলায় বিভক্ত—নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা। এর ফলে নামজারি, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনাতেও সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে।

এই জটিলতা কাটাতেই পুরো এলাকাকে এক জেলা ও একক প্রশাসনের অধীনে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


ডিএনসিসি ও ডিএমপির অধীনে আনার পরিকল্পনা

প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্বাচলকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর আওতায় আনা হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, স্ট্রিট লাইট ও জনস্বাস্থ্যসেবাসহ নগর সুবিধাগুলো আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর আওতায় এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।


প্রকল্পের আয়তন ও অবকাঠামো

প্রায় ৬ হাজার ২৬১ একর আয়তনের এই প্রকল্পটি শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এতে রয়েছে ৪৮ কিলোমিটার লেক ও ৩৬৫ কিলোমিটার সড়ক। ইতোমধ্যে কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত আট লেনের এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে।


মৌজা পুনর্গঠন ও নতুন পরিকল্পনা

বর্তমানে ১৬টি মৌজায় বিভক্ত এলাকাকে পুনর্গঠন করে পাঁচটি বৃহৎ মৌজায় রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্বাচল-১ থেকে পূর্বাচল-৫ নামে এই পাঁচটি মৌজার অধীনে ৩০টি সেক্টর পুনর্বিন্যাস করা হবে। এতে ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং সেবা প্রদান আরও সমন্বিত হবে।


প্রায় ৩০ হাজার প্লট

প্রকল্পে মোট আবাসিক প্লট রয়েছে ২৬ হাজার ২১৩টি। এর মধ্যে বিভিন্ন আকারের প্লট ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আরও ৩ হাজারের বেশি প্লট রয়েছে।


উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ

১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অনেক স্থানে ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়নের দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা সরকারের কাছে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


সব মিলিয়ে, পূর্বাচলকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেবা প্রদান সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।