বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দলটি গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ পালন করে আসছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কিছুটা নিশ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করছে।
তবে সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম মালিক সাংবাদিকদের ওপর অন্যায় আচরণ করছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনও অনেক সাংবাদিক বেকার রয়েছেন। তিনি তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক বাংলা ও দ্য টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
বিএনপিকে একটি উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনে বিশ্বাস করে না। সকল নাগরিকের সমান অধিকারে দলটি আস্থা রাখে। আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের শাসনামলকে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ সময়কার ঘটনাবলি নিয়ে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক বই রচনা প্রয়োজন। লেখক, গবেষক ও সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন মারুফ কামাল খান, কবি হাসান হাফিজ, আব্দুল হাই সিদ্দিকসহ সাংবাদিক নেতারা।