জাতীয়

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়: তারেক রহমান

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৬, ১৫:১৭
PostImage

জনগণ থেকে দূরে না সরে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসএসএফ-এর প্রধান দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার সময়ের এসএসএফ এবং বর্তমান সময়ের এসএসএফ-এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।


তারেক রহমান বলেন, একটি বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীকে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত সকল সদস্যকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।
এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দায়িত্ব পালনকালীন সময় থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিনগুলোতেও এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বৃহৎ জানাজা আয়োজনেও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করা হয়েছে। ফলে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা, কৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এসএসএফ-এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সদস্যদের এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ আধুনিক ও সময়োপযোগী করে পুনঃসংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু বাহিনীর কর্মপদ্ধতির নির্দেশনা নয়, সদস্যদের জন্য আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।


তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে বাছাই করা দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এসএসএফ গঠিত হয়। তাদের দেশ-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, এসএসএফ প্রধান এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন