দেশে বর্তমানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের কোনো পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছাড়া বাকি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সেই দিনেই সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রতিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতের ক্ষোভ বা প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিন্তা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।
তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে সহিংসতা ও নিষ্ঠুর আচরণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সভায় দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। এদিকে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের সমর্থিত দল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দীর্ঘদিন একটি দেশে (ইংল্যান্ড) ছিলাম, বুঝতেই পারছেন।”
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।