লাইফস্টাইল

আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস: সুস্থ ফুসফুসে তামাকমুক্ত জীবনের আহ্বান

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪
PostImage

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ


আজ ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফুসফুস দিবস-২০২৬। ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ ফুসফুসের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘এ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’।


ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), যক্ষ্মা ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সরাসরি ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।


‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মৃত্যুর শীর্ষ পাঁচটি কারণের মধ্যে দুটি হলো ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ।


জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. ফকির ওয়ালিদ শাহ বলেন, শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। ফুসফুসের ভেতরে অ্যালভিওলাই নামে ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে। একই সময়ে শরীরে উৎপন্ন কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে ফুসফুসে আসে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়।

রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়। কোষ সেই অক্সিজেন ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শুধু শ্বাসপ্রশ্বাস নয়, হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক, পেশি ও অন্যান্য অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।


ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ বা সিওপিডিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ এবং মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর প্রায় ৬ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত।


একই বছরে হাঁপানিতে আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত ছিলেন এবং এ রোগে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের মধ্যে হাঁপানিকে অন্যতম সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও শারীরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।


চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা ফুসফুসের অন্যতম সংক্রামক রোগ। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। আক্রান্তদের মধ্যে আনুমানিক ৫৮ লাখ পুরুষ, ৩৭ লাখ নারী ও ১২ লাখ শিশু।


বাংলাদেশে নতুন যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা ছিল বৈশ্বিক আক্রান্তের প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ফুসফুসের ক্যানসারেও উদ্বেগ


ফুসফুসের ক্যানসারও বিশ্বজুড়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবোক্যান-২০২৪-এর হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ লাখ নতুন ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

ওই বছর ফুসফুসের ক্যানসার ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার এবং ক্যানসারে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি।


তামাক ব্যবহারে বছরে দুই লাখ মৃত্যু

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যান। দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার কিশোর ও তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।


ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বর্জন, বায়ুদূষণ কমানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।