লাইফস্টাইল

বর্ষাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যেসব খাবার রাখবেন খাদ্যতালিকায়

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৩
PostImage

বর্ষাকাল প্রকৃতিকে যেমন সজীব করে তোলে, তেমনি এ সময় বেড়ে যায় বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও।


বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, দূষিত পানি, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিস্তারের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা এবং ত্বকের নানা রোগ বেশি দেখা যায়। তাই এ মৌসুমে সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে এর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, আমলকি ও কিউইয়ের মতো ফল রাখলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায়। বর্ষার মৌসুমি শাকসবজিও শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পালং শাক, লাল শাক, গাজর, লাউ, ঝিঙা, করলা, কুমড়া, ব্রকোলি ও ফুলকপির মতো সবজিতে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

আদা ও রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। প্রতিদিনের রান্নায় এসব উপাদান ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায়। বর্ষার দিনে এক কাপ গরম আদা চাও আরামদায়ক ও উপকারী হতে পারে। অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হজমশক্তি উন্নত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। তবে অবশ্যই তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়া উচিত।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, ছোলা, মসুর ও সয়াবিন শরীরের কোষ মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, তিসি ও কুমড়ার বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন-ই এবং খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।

বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। এতে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে এবং বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়। একই সঙ্গে সবজি, ডাল বা মুরগির গরম স্যুপ শরীর উষ্ণ রাখতে এবং পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বর্ষায় রাস্তার খোলা খাবার, কাটা ফল এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর পরিবর্তে ঘরে তৈরি গরম ও তাজা খাবার খাওয়া নিরাপদ। রান্নার আগে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা না রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু পুষ্টিকর খাবারই নয়, সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস অনেক সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত পানিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই বর্ষাকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা সম্ভব। সচেতনতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এ মৌসুমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।