আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী সংকটে নতুন মোড়, মার্কিন বাহিনী এখনই প্রস্তুত নয়

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১২ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪২
PostImage

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের জাহাজকে সামরিক পাহারা দিয়ে পার করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনই প্রস্তুত নয়।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক সাক্ষাৎকারে CNBC–কে বলেন, পরিস্থিতি একটি “সাময়িক বিপর্যয়” এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য এখন অন্যত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার


ক্রিস রাইট জানান, মার্কিন সামরিক শক্তি বর্তমানে মূলত—

ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা

মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে দুর্বল করতে হলে এই সাময়িক চাপ সহ্য করতেই হবে। ইরানের নতুন নেতার কঠোর অবস্থান


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ।

ইরানি সামরিক বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, যদি মার্কিন নৌবাহিনী তেলের জাহাজ পাহারা দিতে আসে, তাহলে তারা সেটিকে “স্বাগত জানাবে”—যা মূলত সংঘর্ষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


তেলের বাজারে অস্থিরতা

এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করছে।


যুদ্ধ শুরুর আগে (২৮ ফেব্রুয়ারি): ৭০ ডলার/ব্যারেল

সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ: ১২০ ডলার/ব্যারেল

বর্তমানে: ৮০–১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা, যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। এক মাস আগে পেট্রোলের দাম: ২.৯৪ ডলার/গ্যালন, এখন: ৩.৬০ ডলার/গ্যালন


তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে লাভবানও হতে পারে।

ভুল তথ্য নিয়ে বিতর্ক


এর মধ্যে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সামাজিক মাধ্যমে ভুলবশত দাবি করেছিলেন যে মার্কিন নৌবাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করে দিয়েছে। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, সেই তথ্য ভুল ছিল এবং পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ হয়।

যদি চান,আমি আপনাকে সহজভাবে বোঝাতে পারি হরমুজ প্রণালী কেন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ এবং এটি বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে।