যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ জল, স্থল ও আকাশপথে তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি দুই দেশের চলমান প্রচারণামূলক ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ও স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় আরব সাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে দুই দেশ বাকি অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে পর্যায়ক্রমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ মার্কো রুবিও। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আরোপের চেষ্টা চললে সংকটের সমাধান কঠিন হবে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত করে দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনায় দুই দেশের অবস্থান অনেকটা কাছাকাছি এলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।