ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ।
রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লা কমপ্লেক্সে আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার জামাতা মেসবাহ-ওল-হোদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সাইয়েদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানির মরদেহও রাখা হয়।
জানাজায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা। এছাড়া অন্তত ৭০টি দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। আফগানিস্তান ও ইরাক সীমান্ত দিয়েও বিপুলসংখ্যক মানুষ এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে পবিত্র নগরী কোমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমামতি করবেন আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি। পরে মাশহাদে অনুষ্ঠিত শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি।
এরপর আরও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সবশেষ তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জনসমাগমের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজার রেকর্ডটি রয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনির জানাজার। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, সেই জানাজায় এক কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।