আন্তর্জাতিক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিল মোদি সরকার

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৩ মে ২০২৬, ১৬:৪৮
PostImage

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন তেলাপোকা জনতা পার্টি বা সিজেপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন তেলাপোকা জনতা পার্টি বা সিজেপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক দাবি করেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জোরপূর্বক তাদের ওয়েবসাইট সরিয়ে দিয়েছে।

আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে তিনি দাবি করেন, বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারী প্রতারকদের কথা বলেছিলেন।

এরপরই ১৬ মে অভিজিৎ দিপক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ চালু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটির জনপ্রিয়তা বিস্ফোরকভাবে বাড়তে থাকে। ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর অনুসারী সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়।

অভিজিৎ দিপক অভিযোগ করেন, শুধু ওয়েবসাইটই নয়, তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও সিজেপির একাধিক পেজ হ্যাক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টও ভারতে ব্লক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহে ১০ লাখ তরুণ তাদের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেছিলেন এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ৬ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন।

এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র, অখিলেশ যাদব এবং শশী থারুর-এর মতো নেতারা।

তবে সংগঠনটির নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিজিৎ দিপক আগে আম আদমি পার্টি-র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিমে কাজ করেছিলেন। এ কারণে কেউ কেউ সিজেপিকে একটি ‘গোপন রাজনৈতিক প্রকল্প’ বলেও দাবি করছেন। যদিও দিপক বলেছেন, বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই এবং এটি তরুণদের অধিকার আদায়ের স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।