মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রভাব বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা কৌশল নিয়ে ভাবতে বলছেন তাঁর উপদেষ্টারা।
প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
তেলের দাম বাড়ায় উদ্বেগ
ট্রাম্প প্রশাসনের বাইরে থাকা অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন—
“যখন গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ে, তখন সবকিছুর দামই বেড়ে যায়।”
তিনি সতর্ক করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আগেই বড় সমস্যা, তখন জ্বালানির দাম বাড়া নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রিপাবলিকান নেতারাও সতর্ক করেছেন, এটি নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন,
সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে অনেক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চাইছেন কর্মকর্তারা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা তাঁকে যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন।
তাদের মতে, ট্রাম্প চাইলে বলতে পারেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে তার বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জন করেছে।
ইরান নতি স্বীকার না করায় বিস্ময়
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর টানা সামরিক অভিযান সত্ত্বেও ইরান এখনো নতি স্বীকার করেনি—এতে ট্রাম্প কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি যদি মার্কিন দাবিগুলো না মানেন, তবে তাকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও তিনি সমর্থন দিতে পারেন।
জনমত ও রাজনৈতিক চাপ
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অনেক আমেরিকান এই যুদ্ধের বিপক্ষে। তবে ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, অধিকাংশ আমেরিকানই ইরানের হুমকি বন্ধ করতে এবং সন্ত্রাসবাদ দমন করতে চান।
কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধের যৌক্তিকতা জনগণের কাছে তুলে ধরতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও আগ্রাসী যোগাযোগ কৌশল নিতে পারে—বিশেষ করে যখন জ্বালানির বাড়তি দামে ভোক্তারা চাপের মধ্যে আছেন।
এমআর/