এই ঘটনায় প্রতীকার চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান।
হামলার বিবরণে লিখিত অভিযোগে এম এ হান্নান জানান, গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হগোলি গ্রামে প্রচারণা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। পরে ঘোলদানা আজিম ভূঁঞার বাড়ির মোড়ে পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সবুজের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তার কর্মী জহিরুল ইসলাম তা প্রতিহত করেন। এতে জহিরুলের হাত ও চোখ মারাত্মক জখম হয়। হামলাকারীরা শুধু প্রার্থীর গাড়ি বহরই নয়, সংবাদ সংগ্রহে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ এবং ‘মোহনা টিভি’র সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়। তাদের মূল্যবান ক্যামেরা ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া খাজুরিয়া বাজারে সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও জাকির গাজীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ফারুক হোসেন, কাউছার ও জহিরুল ইসলামসহ প্রায় ৮ জন কর্মীকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এম এ হান্নান অভিযোগে জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি চাই ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মো. হেলাল জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্রপ্রার্থী এম এ হান্নানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আমার ফোর্স তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আমরা এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা নিয়েছি। এখন পরিস্থিতি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। সব বাহিনী মাঠে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আচরণবিধির বিষয়টি প্রতিপালনে প্রার্থীদের সচেতন করছি।