আন্তর্জাতিক

টানা তিন দিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৪
PostImage

টানা তিন দিন ধরে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক ভারী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।


টানা তিন দিন ধরে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক ভারী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্লাস্টার বোমা, কার্বন-ফাইবার বোমা এবং স্থানান্তরযোগ্য স্বল্পপাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য “হোয়াসং-১১ কা” ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রায় ৭ হেক্টর এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে।

বুধবার দেশটি দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা সমুদ্রে পড়ার আগে ২৪০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।


ক্লাস্টার বোমা মূলত একটি বড় বোমার ভেতরে থাকা অসংখ্য ছোট বোমার সমষ্টি। বিস্ফোরণের পর এগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। একটি ক্লাস্টার বোমায় সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০টি ছোট বোমা থাকতে পারে।


কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র ও কার্বন-ফাইবার বোমাকে সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে পিয়ংইয়ং। তবে এসব পরীক্ষার সময় দেশটির নেতা কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি গণমাধ্যমেও এখনো পরীক্ষার কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি।


দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অভিযোগ করেছে, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে শুধু নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও শক্তির প্রদর্শন করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে পিয়ংইয়ং তাদের অস্ত্র প্রযুক্তি আরও উন্নত করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তৈরি করার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।


এদিকে ওয়াং ই উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মে মাসে চীন সফরের সময় কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করতে পারেন।

সব মিলিয়ে, উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে