আন্তর্জাতিক

ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
১২ জুন ২০২৬, ০৬:২৪
PostImage

বিশ্ব শেয়ারবাজারে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।


বিশ্ব শেয়ারবাজারে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সফল হলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।


স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর মাধ্যমে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং মোট ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আইপিওর আকার ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর ২৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের আইপিওর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আন্ডাররাইটিং ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত শেয়ার কেনার সুযোগ পুরোপুরি ব্যবহার করলে আইপিওর আকার প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


প্রস্তাবিত শেয়ারমূল্যের ভিত্তিতে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। কর্মীদের স্টক অপশনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিলে প্রতিষ্ঠানটির মোট মূল্যায়ন প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাবলিক কোম্পানিগুলোর অন্যতম হয়ে উঠবে এবং ইলন মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলার বাজারমূল্যকেও ছাড়িয়ে যাবে।


বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের আইপিওর পর ইলন মাস্কের সম্পদ প্রায় ২৭৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেলেই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে পারেন।


বর্তমানে স্পেসএক্সে তার মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৬৮৮ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পেসএক্সের আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তাদের জন্য মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ রাখা হলেও প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার কেনার আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে ভবিষ্যতের মহাকাশ ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক বেশি।


তবে এই বিশাল মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, এখনো বড় ধরনের মুনাফা অর্জন না করা একটি প্রতিষ্ঠানের এত উচ্চ মূল্যায়ন মূলত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্মাদনা এবং ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন কিংবা মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সামনে এনে বর্তমান মূল্যায়নকে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।


স্পেসএক্স এখন শুধু রকেট উৎক্ষেপণ বা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো খাতেও বড় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বড় বড় এআই কোম্পানির জন্য ক্লাউড ও কম্পিউটিং অবকাঠামো সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল আয় করছে। বিশেষ করে মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ অধিগ্রহণের পর স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের আইপিও শুধু একটি কোম্পানির বাজারে প্রবেশ নয়; এটি পুরো প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

কারণ আগামী সময়ে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোরও শেয়ারবাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্পেসএক্সের শেয়ারের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।