বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারাদেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হলেও অধিকাংশই এখনো পলাতক। ২০২৪ সালের ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে এই রায় ঘোষণা করা হলো।
বহুল আলোচিত এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।