মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘর্ষের খবর না মিললেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা আবারও বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অথবা শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে, যদিও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। তবে আলোচনার আগেই একটি বড় মতবিরোধ সামনে এসেছে। ইরান চায়, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ হোক, কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে তা যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে সম্ভাব্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসতে পারে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান চায়, প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি পাক এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় থাকুক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার দেওয়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস, ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নেতৃত্বও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু স্থানে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো নাজুক। আসন্ন বৈঠকে কোনো অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।