জাতীয়

বগুড়ার তিন আলোচিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুন ২০২৬, ১৪:৩৩
PostImage

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে।


বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে মিল রেখে গঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতির ভিত্তিতে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, এর আগে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গত ১১ ও ১৪ জুন জেলা প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। এতে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠিত হয়। তবে নামগুলো প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম অপরিবর্তিত থাকায় তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়। অন্যদিকে তার প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন এবং তিনি নিজেই নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিরোধিতা করেছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গণশুনানি শেষে নতুন নাম চূড়ান্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন