বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, উৎপাদন শিল্প ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৯২১ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, এগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তাব। সরকার এখনো এগুলোর যাচাই-বাছাই করেনি। ফলে এই মুহূর্তে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বা সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে। এ খাতে সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তি শিল্প স্থাপনে ১৬৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) প্রকল্পে ৮৯ কোটি ডলার এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড গুদাম ও আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব উন্নয়নে ৬৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার উৎপাদন, আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণ, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি, পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন এবং ভেষজ উদ্ভিদভিত্তিক শিল্পেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান। সরকারের যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।